DAP_2016 to 2035

বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০১৬-২০৩৫) এর উপহার, সুক্ষ চিন্তায় মহানগরের বর্তমান জলাধারের একাংশকে ভরাটের লোভনীয় প্রস্তাবনা

বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০১৬-২০৩৫) এর উপহার, সুক্ষ চিন্তায় মহানগরের বর্তমান জলাধারের একাংশকে ভরাটের লোভনীয় প্রস্তাবনা

লেখকঃ স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, প্রধান স্থপতি (অবঃ), স্থাপত্য অধিদপ্তর, ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রস্তাবিত ড্যাপে দেশের জলাধার দুই ভাগে ভাগ করে এক অংশকে ভরাটের প্রস্তাবনা এসেছে!

এটা অনেকেই জেনে এবং বুঝেও ড্যাপ অনুমোদনের জন্য সায় দিচ্ছেন! প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য খুব ক্ষতিকর একটি তেতো বিষয়কে ড্যাপে বেশ সুন্দর ভাবে মধুতে মুড়িয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং আমরা মুখে নিয়ে এখনো মধুর অংশটুকুই দেখছি! এখানে প্রাকৃতিক মূল জলাধারকে দুইভাগে ভাগ করার প্রস্তাব এসেছে! ড্যাপের প্রস্তাব অনুযায়ী জলাধার হবে মুখ্য জলস্রোত এবং সাধারণ জলস্রোত এ দুই ভাগে বিভক্ত! সাধারণ জলস্রোতে যা নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে নিকট আগামীতে নগরবাসীর জন্য বেশ জলাবদ্ধতার হুমকি প্রস্ফুটিত! মহানগরীর জলাধার এর পরিমান এমনিতেই কম এবং এই ড্যাপ গেজেটের পরে কিছু লোকের জন্য জলাধারের পরিমান পরবর্তীতে আইনগত ভাবে আরো কমিয়ে ফেলার সুযোগ তৈরী করে দেয়া হলো!

কি ভয়ংকর একটি বিষয়,কিন্তু উপস্থাপনা এতটাই চিনিতে আবৃত আপনার কাছে মনে হবে ক্ষতি কি,এমন হতেই তো পারে!

একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি! প্রস্তাবিত ড্যাপে প্রচলিত বন্যাপ্রবাহ অঞ্চলকে খুব শুদ্ধ পরিভাষায় প্লাবন ভূমি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে,মনে হয় তাতে ভবিষ্যতে কারো লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা আছে! তারপর এ বন্যাপ্রবাহ সব অঞ্চলকে খুব সুন্দর দুইটি নাম দেয়া হলো! •এক জলস্রোত প্রধান প্লাবনভূমি এলাকা •দুই সাধারণ প্লাবনভূমি অঞ্চল এর পরে শুরু হলো আসল বিষয়! জলবিদ্যার আলোকে কিছু উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা নির্দেশনার নামে বলা হলো জলাধারের স্রোতকে দুই ভাগে ভাগ করা হবে! •এক মুখ্য জলস্রোত এলাকা •দুই সাধারণ জলস্রোত এলাকা এবং এ চিহ্নিত সাধারণ জলস্রোত এলাকাতে শর্ত সাপেক্ষে বৃহদায়তন প্রকল্প করা অনুমোদন যোগ্য! বৃহদায়তন প্রকল্পগুলো হলো….

•বিশ্ববিদ্যালয়

•মেডিকেল কলেজ

•হাসপাতাল

•বর্জ্য পুনঃচক্রায়ন

•তারকামানের হোটেল

•জেলখানা

•পরিবহন টার্মিনাল

•দূতাবাস

এসব বাদেও বসবাসের জন্য ঘরবাড়ি কিংবা বাংলো বানাতেও পারবেন!

আমি যদি বুঝতে ভুল করে না থাকি এমন একটি প্রস্তাবনা কি দেশের বর্তমান জলাধার আইন, ২০০০ সনের ৩৬ নং আইনের পুরোপুরি পরিপন্থী নয়? তাহলে প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না রেখে আইনকে এমন করে অমান্য করে জলের সীমানা বা জলাধারের এক অংশ এভাবে মাটি ভর্তি করার অনুমতির প্রস্তাব ড্যাপে কিভাবে আসলো এবং এর ফলে কাদের জন্য লাভবান প্রস্তাব হলো তা নিবিড় বিশ্লেষণ প্রয়োজন! দেশ আমাদের সবার,মহানগরীতে আমাদের বসবাস,আমরা সবাই চাইবো দেশের জন্য ক্ষতি হোক, জনগণের জন্য ক্ষতি হোক এমন কোনো প্রস্তাব যেন আমাদের ড্যাপে সন্নিবেশিত না করা হয়! আমি যদি বুঝতে ভুল করি তাহলে বুঝদার প্রণেতাগণ অনুগ্রহ করে আমার বোঝার ভুলটি ভাঙিয়ে দিবেন,আমিও একটু ঋদ্ধ হবো!

One thought on “বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০১৬-২০৩৫) এর উপহার, সুক্ষ চিন্তায় মহানগরের বর্তমান জলাধারের একাংশকে ভরাটের লোভনীয় প্রস্তাবনা

Comments are closed.