ড্যাপ বিতর্ক

কেন এই ড্যাপ বিতর্ক এবং এর সমাধান কোথায় ?

কেন এই ড্যাপ বিতর্ক? এবং এর সমাধান কোথায় ?

স্থপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, প্রধান স্থপতি, মাত্রিক আর্কিটেক্টস, ঢাকা
গত কয়েক বছর ধরে ঢাকার ডিটেইল এরিয়া প্লান বা ড্যাপ নিয়ে প্লানার এবং আর্কিটেক্ট কমিউনিটির মধ্যে ড্যাপ বিতর্ক চলছে।

কিন্তু কেন এই মতবিরোধ? এবং এর সমাধান কোথায়?

** প্রথমেই বলে রাখি আমি লেখার ক্ষেত্রে খুব বেশি সরলিকরন করব, একেবারে সাধারণ মানুষের ভাষায় লিখবো। অসংখ্য সূক্ষ্ম ও ব্যাতিক্রমী কিন্তু গুরুত্মপূর্ন বহু বিষয় ইচ্ছা করেই এড়িয়ে যাবো।
.
মোটা দাগে বিরোধ মূলত: প্রতি কাঠা জমিতে কত বর্গফুটের বাড়ি বানানো যাবে তাই নিয়ে। প্লানাররা যেখানে চাচ্ছেন কমিয়ে দিতে, স্থপতিরা চান বাড়িয়ে দিতে বা অন্ততঃ এখন যা আছে তাই রাখতে।
.

এখন কেন এই পরস্পর বিরোধী অবস্থান?

.
আমি মনে করি দুই কমিউনিটি আসলে একই জিনিস চাইছে, শুধু ভাষাটাই আলাদা।
এবারে দুই পক্ষের মধ্যে সহমতের জায়গাটা দেখে নেই।
১। দুই পক্ষই সুন্দর ও বসবাস্যোগ্য শহর দেখতে চায়।
২। দুই পক্ষই সকল নাগরিক সুবিধা ও অবকাঠামোর বাস্তবায়ন চায়।
৩। দুই পক্ষই সকল সাধারন ঢাকাবাসীর জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়।
৪। দুই পক্ষই মনে করে উপরোক্ত কাজ গুলো করতে রাজউক এতদিন ধারাবাহিক ভাবে ব্যার্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যার্থতার আশংকা আছে।
৫। দুই পক্ষই মনে করে পরিস্থিতির সমাধান শুধু এই দুই পক্ষ বা রাজউক মিলে দিতে পারবে না। বরং সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না।
সারমর্ম: সমাধান করতে হবে সরকারকে।
.
অথচ, সরকারের উদ্দোগেই এই ড্যাপ। সরকারই সবচেয়ে বেশি করে চায় ড্যাপ বাস্তবায়ন হোক। এবং তা করতে হলে এই দুই কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। নগর ঢাকাকে সুন্দর ও বসবাস-যোগ্য করতে হবে। তাহলে আমরা পেশাজীবি এই দুই কমিউনিটি মিলে মিশে কেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের সেই লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবো না?
.

তার আগে দেখে আসি দুই কমিউনিটির মধ্যে দ্বিমত কোথায় এবং কেন?

১। আর্কিটেক্টদের বক্তব্য ড্যাপে নির্ধারিত প্রতি কাঠা জমিতে যত স্কয়ারফুট বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে সেটা খুবই কম এবং সর্ব সাধারনের চাহিদা পূরন করতে পারবে না। তাই এই স্কয়ারফুট এর পরিমান বাড়িয়ে দিয়ে ঘন বসতি তৈরি করে দিলে, উক্ত বসতির সাপেক্ষে সরকার একসময় ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও অন্যান্ন সুবিধা বাড়িয়ে দিবেন বা দিতে উদ্দোগী হবেন। এতে মানুষ কর্মক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকায় থাকার সুযোগ পাবে। পরবর্তীতে সরকার উন্নত ইনফ্রস্ট্রাকচার ও ট্রান্সপোর্টেশনের মাধ্যমে স্যাটেলাইট টাউন তৈরি করে দিলে সাধারন মানুষ স্বেচ্ছায় সেখানে মাইগ্রেট করে যাবে। শহরের জনঘনত্ব সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।
সারমর্মঃ ঘনবসতির বিকল্প তৈরি হলে জনঘনত্ব কমে যাবে।
.
কিন্তু,
.
প্লানারদের বক্তব্য হলো আর্কিটেক্টদের প্রত্যাশা অনুযায়ী এত বছর ধরে এসব নাগরিক সুবিধাদি তৈরি হয়নি বরং যত্রতত্র অতি ঘন বসতি তৈরি হয়ে গেছে বলেই ঢাকার এই করুন দশা। বরং এখন ঘনত্ব ড্যাপের আইন দিয়ে কমিয়ে রাখলে জনগন তখন তাদের আবাসন বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি তখন সরকারের ও ওই সব নতুন ও ফাকা এলাকায় নাগরিক অবকাঠামো বানাতে সহজ হবে।
তার উপরে পুরাতন অপ্পরিকল্পিত এলাকায় যেহেতু নাগরিক সুবিধা বাড়তি থাকলে বাড়তি স্কয়ারফুট পাওয়া যায় তাই জনগন ও সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে নান নাগরিক সুবিধা আদায় করে নেবেন।
সামারি: জনঘনত্ব কম রাখলে পরে বিকল্প আবাসন তৈরি হবে।
.
আমার দৃষ্টিতে ফার নিয়ে এই দুই কমিউনিটির বিতর্ক হচ্ছে ডিম আগে না মুরগী আগে বিতর্কের মতই। এই বিতর্কের তাই শেষ নাই। একই কথা দুই কমিউনিটি দুই ভাষায় বলে যাচ্ছে। কেউ কারো কথার মর্ম বুঝছে না।
.

এবার আসি সমাধানে। সমাধান কী হতে পারে?

.
আগেই দেখেছি, সমাধান করতে হবে সরকারকে। এবং আমাদের সকলকে সরকারের এই সমাধানের সহযোগীতার জন্য প্রয়োজনীয় কারগরি সমাধান দিয়ে সহায়তা করতে হবে।
.
এবারে ভাবা যাক কী হতে পারে এই সমাধান?
একটা উদাহরণ দেই,
ঢাকার কোন একটা বিশেষ এলাকা, ধরি উত্তরখান। সেখানে আমরা আরো অনেক বেশি মানুষের আবাসন দেব। সকল নাগরিক সুবিধা সহ দেব। এই প্রস্তাবে আর্কিটেক্ট, প্লানার এবং সরকার সকলেই একমত হবেন।
সেখানে প্লানাররা প্রস্তাব দেবেন (ড্যাপে তারা সেটাই করার চেষ্টা করেছেন) কীভাবে কোন রাস্তা গুলো কী পরিমান প্রসার করতে হবে, কোন কোন প্লট গুলিকে খোলা মাঠ, জলাধার, স্কুল, হাসপাতাল ও বনায়ন, অফিস, বাজার সহ তাবত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তার পরে কোন কোন প্লট একত্রীকরণ করে ব্লক ডেভেলপমেন্ট করতে হবে। আর আর্কিটেক্টরা সেই প্লট গুলিতে উচু দালান বানিয়ে আগের সব মানুষকে রি সেটেল করে আরো কিছু নবাগত মানুষের জন্য বাড়ি তৈরী করে দেওয়ার ব্যাবস্থা করবেন।
.
এই কাজ কিন্তু সহজ না। কে তার এত দামের জমি ছাড়তে চায়? আবাস ভূমি রি-ডেভেলপমেন্ট করা সরকারের স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য বিরাট একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ। কিন্তু এ ছাড়া এই শহরকে বাঁচানোর আর কোন উপায় আছে কি? সুতরাং কাজ কঠিন বলেই সরকারের সহযোগী হিসাবে আমাদের দুই কমিউনিটিকে আরো বেশি পরিশ্রম দিতে হবে। আরো বেশি জনবান্ধব উপায়ে সমস্যা গুলোর সমাধান দিতে হবে। এই দুই কমিউইনিটির সম্মলিত উদ্যোগই পারবে পুরাতন ঘিঞ্জি এলাকার মানুষকে নতুন আবাসন উপযোগী এরিয়া প্লান ও নতুন নতুন দালানের স্বপ্ন দেখিয়ে ওই জনগনের সম্মতি আদায় করে নেওয়া
.

কিন্তু সেদিন কবে আসবে? বা আদৌ আসবে কি?

.
নাকি প্লানাররা স্কয়ারফুট কমিয়ে মানুষকে শহরের কেন্দ্র বিমূখ করে তুলতে চাইতেই থাকবেন, আর আর্কিটেক্টরা নাগরিক সুবিধা না থাকলেও মানুষের জন্য বাড়ি ঘরের দাবি করতেই থাকবেন?
মাঝখানে পরে কোটি খানেক নগরবাসী আজীবন অস্বাস্থ্যকর এক নগরে ধুকে ধুকে মরতে থাকবেন?
সরকার বিব্রত হয়ে ভাববে এর সমাধান কোথায়?
.
আমি মনে করি, বর্তমানে যে তাত্বিক ডিবেট তৈরি হয়েছে সেটাই বরং সবচেয়ে বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে। এখন যে ড্যাপ হাতে পাওয়া গেছে তার উপরে ভিত্তি করে দুই কমিউনিটির বহু উন্নত মস্তিষ্কের নিউরণ নগর ঢাকার সমস্যার সমাধান নিয়ে আগের চেয়ে বেশী করে চিন্তা ভাবনা শুরু করেছে।
.
এখন প্রয়োজন দুই কমিউনিটির মধ্যে নিয়মিত ডায়লগ। প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্দোগ। উদ্যোগ আগেও ছিল, কিন্তু সেটা কোন এক অজানা কারনে ব্যার্থ হয়েছে।উন্নয়ন কাজে সবচেয়ে কাছাকাছি যে দুই কমিউনিটি, আর্কিটেক্ট এবং প্লানার তাদের মধ্যে অনেকটাই মতবিরোধ চলে এসেছে। তার কারণ গুলো এখন চিনহিত করা দরকার।
দুই কমিউনিটির সদিচ্ছুক সকল সদস্য বিশেষ করে দুই কমিউনিটির যে সব সদস্যের মধ্যে ব্যাক্তিগত বা বাক্তি-স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন বিরোধ নেই, তাদের নানা ফোরামে এবং নানা ক্ষেত্রে সামনা সামনি মতবিনিময় প্রয়োজন। মিডিয়ার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই সংহতির চেয়ে বেশি বিভাজন তৈরি করে। আমাদের উচিত পত্যক্ষ যোগাযোগ ও ডায়লগ এবং সেখানে সর্ব সাধারনের উপস্থিতি।
.
দিন শেষে এই শহর আমাদের আবাসন। ডায়লগের মাধ্যমে যদি ভালো একটা সমাধান বের হয়ে আসুক আমরা সবাই সেটা চাই।
———————————————————
৭১ টিভিতে প্রচারিত ড্যাপ বিতর্ক দেখতে ক্লিক করুন

One thought on “কেন এই ড্যাপ বিতর্ক এবং এর সমাধান কোথায় ?

  1. The main focus of DAP is decreasing density levels, which is a negation of today’s sustainability slogan. Currently, planning policies encourage higher densities because land as a commodity is limited. The city can only be habitable if Dhaka’s urban design is studied in totality and not fragmented.
    Housing is not the only use that land has; for a balanced density, we need to introduce open spaces for better air quality and happier spaces. It means all plots should not be built in a similar manner, rather each area is subdivided and detailed with respect to amenities. Commercial, storage, parking buildings, hospitals, religious institutions and academic facilities. All must have a position and share within an area. If that is not balanced, then density control is actually creating more problems.
    When we only limit our focus to plots for residential purposes we not viewing the whole picture. The complete design will take into consideration, people’s movement to other activities and their chance to meet their community in a safe area. Government can form a rule, but its implementation has to be through an elected body that has the capacity to understand Urban Design in the context of commercial viability and social benefits.
    Dhaka is not in isolation, it has a position politically and commercially. What burdens or destroys it should be controlled, for example, factories pollution like tanneries. Vehicles emitting poisonous gas and so on.
    Rural areas simultaneously need to be preserved for agriculture and a check should be imposed on its urbanization. The present benefit for farmers needs to be revised in their favour rather than others getting the major share in profit.
    A holistic approach is needed, where not only planners and architects are discussing and deciding for the population. Rather Urban designers, entrepreneurs, bankers, builders, children and mothers are also part of the decision-making. For without the users how can we project the future,

Comments are closed.