গ্রামীণ জনপদের ঘরবাড়ী

গ্রামীণ জনপদের ঘরবাড়ী

[লেখকঃ স্থপতি মাহফুজুল হক জগলুল, প্রধান স্থপতি, ইন্টারডেক সিস্টেমস, ঢাকা]

ঘর – ১

ঘর-১

বুয়েটে আমাদের স্থাপত্য সিলেবাসে পশ্চিম ইউরোপ,উত্তর আমেরিকার আধুনিক স্থাপত্য পড়ানো হতো খুব সিরিয়াস ভাবে, ভারতের প্রাচীন আর মধ্যযুগের স্থাপত্যও পড়ানো হতো। মিশর, গ্রীক, রোমান স্থাপত্য পড়ানো হতো……ডরিক,আয়োনিক,করেন্থিয়ান অর্ডারের কলাম আমরা অনায়াসে আঁকতে পারতাম,পার্থেননের কোনা কাঞ্চি আমাদের মুখস্থ ছিল, এমনকি ফরাসি বা ইংলিশ বাগানের ইতিহাসও আমাদের মুখস্থ করতে হতো। …… কিন্তু আমাদের পদ্মা,যমুনা,মেঘনা বিধৌত এই গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ বা গৌড়-বারেন্দ্র অঞ্চলের স্থাপত্যের কোন ইতিহাস কখনো পড়ানো হতো না……. গ্রাম বাংলার বাড়ি ঘরের কোন আলোচনা তো কখনোই হতোনা।

‘ঘর সিরিজে’ আমি দক্ষিনাঞ্চলের নিতান্ত প্রান্তিক, চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কিছু ঘরের ছবি দিতে চাই……. আমাদের এগুলো জানার হয়তো তেমন কোন প্রয়োজন নাই……তার পরও তো প্রয়োজন ছাড়া আমরা কত কিছুই করি….. করি না?

ঘর – ২ হালিম ওস্তার ঘর,

গ্রাম, চরের বাড়ি, পিরোজপুর

বাপ দাদার বংশানুসৃত পেশা ছিল খৎনা করানো,স্থানীয় ভাষায় এই পেশাকে বলে ‘ওস্তা’। এখন এই পেশা ডাক্তারদের দখলে তবে তার নাম জিজ্ঞেস করলে সে বলবে তার নাম ‘হালিম ডাক্তার’, ‘ওস্তা’ সে বলবে না।এই পেশার লোকেরা আমাদের অঞ্চলে নিজেদের নামের সাথে ‘ডাক্তার’ পদবী ব্যাবহার করে।ওদের পাড়ার নাম ‘ওস্তা পাড়া’ কিন্তু ওরা বলে ‘ডাক্তার পাড়া’। প্রথম প্রথম আমি খুব অবাক হতাম, ভাংগা ঘর, খালি গায়ে ছেড়া লুংগি পরা কিন্ত নামখানা জবরদস্ত……. হেমায়েত ডাক্তার, জুবায়ের ডাক্তার, ইত্যাদি ….. আমি খুব কনফিউজড হয়ে যেতাম……. ডাক্তার সাহেবদের বৈষয়িক অবস্থা এতো করুন কেন, পরে বুঝেছি এরা কোন তরিকার ‘ডাক্তার’।

ডাক্তার সাহেবের বর্তমান পেশা কালিগঙ্গা নদীতে মাছ ধরা, কখনো কখনো মাছ ধরতে সে সুন্দরবনও যায়।সরকারী ভাবে যখন মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে তখন ভ্যান চালায়।এক শিশু পুত্র আর এক শিশু কন্যা আর তার স্ত্রী নিয়ে তার কষ্টের সংসার।

হালিম ওস্তার ঘর

ঘরের চেহারা দেখেই তার আর্থিক অবস্থার আন্দাজ পাওয়া যায়। ঘরের দেয়াল তৈরি স্থানীয় হোগলা পাতা আর বাঁশের চটির ফ্রেমিং দিয়ে। মাথার উপর ধানের নাড়ার ছাউনি।নাড়ার দাম এখন অনেক বেশি তাই পঁচে যাওয়া নাড়ার উপর পাতলা পলিথিনের পর্দা দিয়ে বৃষ্টি থেকে বাঁচার চেস্টা।ঘরের ফ্লোর নির্ভেজাল মাটির তৈরি। এরা ঘরের ভিতরে মেঝেতে ঘুমায়, জীবনে কোনদিন খাট বা চৌকিতে ঘুমায় নাই। গরমের দিনে হোগলা পাতার পাটি পেতে ঘুমায়, শীতল মাটির মেঝেতে গরম অনেক কম লাগে, খুব আরামের ঘুম হয়,সমস্যা একটাই রাতে ঘরে অনায়াসেই সাপ ঢোকে, মেছো সাপ নয় দক্ষিনাঞ্চলের বিখ্যাত বিষাক্ত গোখরো সাপ…..গ্রামের লোকেরা বলে ‘জাতি সাপ’।

ঘর – ৩ আনসার শেখের ঘর

গ্রাম,পূর্ব কৈবর্তখালী, পিরোজপুর

আনসার শেখ কাঠের কাজ করে। অনেকটা জংগলার মধ্যে তার ঘর,আসেপাশে কোন ঘরবাড়ি নাই। সে একা থাকতে পছন্দ করে, কিছুটা পাগলাটে স্বভাব,স্ত্রী সন্তানেরা অনেক সময়ই তার সাথে থাকে না। কেন থাকেনা কেউ জানেনা। সে মোটামুটি একা থাকাটা খুব উপভোগ করে। পাগলাটে হলেও আনসার শেখের পুবমুখী ঘরটা কিন্তু একটু ভিন্নরকম। পূর্বদিকে অদূরে কালিগঙ্গা নদী থেকে সারাদিন নির্মল বাতাস এসে ভরিয়ে রাখে তার ঘরটা। ঘরের এন্ট্রি স্পেসটা অনেকটা ডাবল হাইট, এটাই তার তিন দিক খোলা চমৎকার লিভিং স্পেস,সেখানে একটা চেয়ার পাতা থাকে, আর ভিতরের কিছু অংশ দোতলা, একটা মেজেনাইন টাইপ স্পেস আছে ভেতর……বেশ ইন্টারেস্টিং স্পেস।

পুরো ঘরটাই তার নিজের ডিজাইন করা, নিজের হাতে বানানো।খুটি হিসাবে বেশির ভাগই সরাসরি গাছের কান্ডকে শেপ ও সাইজ না করে ব্যাবহার করা হয়েছে। একটা বন্য ভাব আছে ঘরটির মধ্যে। পার্টিশন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে হোগলা পাতার বেড়া (বেড়ার জন্য ব্যবহৃত হয় হোগলার ম্যাচিউর্ড গোড়ার শক্ত অংশ, পাটির জন্য ব্যাবহৃত হয় হোগলার উপরের দিকের পাতলা নমনীয় পাতা) ,কোথাও কোথাও চম্বল কাঠের তক্তা। হোগলা আর তক্তার জোরার ফাঁক দিয়ে চমৎকার ক্রস ভেন্টিলেশন হয়।উপরে চালে ব্যাবহার করা হয়েছে ধানের নাড়া। দক্ষিনাঞ্চলে ধান গাছে উপরের অপেক্ষাকৃত সরু অংশকে বলে খড় বা ‘খেড়’ আর নিচের শক্ত মোটা অংশকে বলে নাড়া। নাড়া দিয়ে ঘর ছাওয়া হয় আর খড় সাধারনত রেখে দেয় গবাদিপশুর খাদ্য হিসাবে।ঘরের মেঝে মাটির, প্লিন্থ বেশ উঁচু কেননা পুর্নিমা আর অমাবস্যায় জোয়ারের পানি প্রায়শই উঠোন ডুবিয়ে ঘরে ঢুকতে চায়।

আনসার শেখের ঘর

সন্ধ্যার পরে অনেক রাত পর্যন্ত দূর থেকে আনসার শেখের দীর্ঘ টানের সুরেলা গান শোনা যায়। গান শুনে মনে হয় হয়তোবা মানুষটা খুব সুখে আছে তবুও পারতপক্ষে তার কাছে কেউ ঘেঁষে না।

আমরা এইসব হতদরিদ্র প্রান্তিক ‘নন-এলিট’ মানুষদের ঘরের ত্রিমাত্রিক ফর্ম, বিন্যাস, ম্যাটেরিয়ালের টেক্সচার,গ্রেইন ইত্যাদি নিয়ে যত ভাবি, এসব ডাটা নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারে পেপার প্রেজেন্ট করে যত হাততালি নেই কিন্তু এই ত্রিমাত্রিক ফর্মকে ঘিরে রক্তমাংসের যে মানুষেগুলো বসবাস করে তাদের হাসিকান্না, সুখ দুঃখমাখা জীবন গল্পের কেমিস্ট্রি নিয়ে কি সত্যিকারের সহানুভূতিশীল দরদ মাখা আবেগ নিয়ে কখনো সৎ চিন্তা করি? প্রান্তিক মানুষের আবাসনের এই যুগ যুগান্তর থেকে চলে আসা চরম মানবেতর পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য কোন বুদ্ধিদীপ্ত গবেষণা ও জ্ঞান ভিত্তিক একটি জোড়ালো জাতীয় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চেস্টা করেছি? নাকি এরা শুধু আমাদের ‘intellectual,professional & carreer persuit’ এর ডাটা কালেকশনের গিনিপিগ?

আনসার শেখের ঘর

এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও একাডেমিক লেভেলে বেশ কিছু ভাল ভাল কাজ অবশ্যই হয়েছে তবে career orinted অপ্রয়োজনীয় পুস্তকমুখী কাজ হয়েছে অনেক অনেক বেশি যা বিদেশের বহু নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির শেল্ফে থরেথরে সাজানো আছে,কিন্তু এই সব ভারি ভারি পুস্তকে/থিসিসে গত ৫০ বছরেও এই মানুষদের আবাসন মানের কোন উন্নতিই হয় নাই,হবেও না, যদিও এসবকে ব্যবহার করে তাদের ক্যারিয়ার অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে। এতো বিশাল জনগোষ্ঠির আবাসনের এই চরম মানবেতর অবস্থার সাসটেইনেবল উন্নতির জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট পেশাজীবি, সুশীল সমাজ,রাজনীতি ও প্রসাশনকে সাথে নিয়ের সুদৃঢ় কমিটমেন্টসহ একটা প্রবল ‘জাতীয় সামাজিক গ্রামীন আবাসন আন্দোলন’ গড়ে তোলা এবং এর নেতৃত্বে অবশ্যই থাকতে হবে স্থপতিদের।

আমি অতি ক্ষুদ্র মানুষ, আর তার চেয়েও ক্ষুদ্রতর স্থপতি…… ছোট মুখে হয়তো অনেক বড় কথা বলে ফেললাম। আমার লেখা তাই কেউ সিরিয়াসলি নেবেন না।

ঘর – ৪ হাওয়া বিবির ঘর

গ্রাম,রাজারকাঠি, পিরোজপুর

হাওয়া বিবি বিধবা, এক কিশোর সন্তান নিয়ে তার সংসার। বিবরনের কিছু পাইনা….. একে কি ঘর বলা যায়? পাখির বাসাও মনে হয় এর চেয়ে নিরাপদ। সেই কোন যুগে হাওয়া বিবির দাদা শশুর এই ঘরটি বানিয়েছিলেন তারপর দশকের পর দশক চলে গেছে সংসারের চরম অভাব অনটনে আজ ঘরের এই দশা।

ঘরটি দক্ষিণমুখী, সামনেই খোলা বারান্দা বা বৈঠকখানা, এখানেই বসেই সে কাঁথা বোনে, পিছনে খালের পারের রান্নাঘরে উঠানে বসে মুড়ির মোয়া, চিড়ার মোয়া, নকশি পিঠা বানিয়ে বিক্রি করে তার সংসার চালায়।

সামনেই সরকারী রাস্তা, পিছনে বিশাল উদয়কাঠির খাল। সুপারি গাছে পাতা (আমাদের অঞ্চলে বলে সুপারির বাইল) দিয়ে পর্দা বানিয়ে আড়াল তৈরি করে খালের পানিতে হাওয়া বিবি গোসল করে,রান্নার কাজকাম সারে।

তার ছেলে ক্লাশ নাইনে পড়ে….. তার অনেক আশা ছেলে পড়াশোনা করে অনেক বড় হবে তখন নতুন করে অনেক সুন্দর ঘর বানাবে…… একই সাথে ভাবে ,ছেলে যখন পড়তে দূরে যাবে তখন এই হিংস্র সমাজে একজন বিধবার জন্য একাকী জীবন এই ভাংগা ঘরে কতটা নিরাপদ…….

তবে মানবজীবন কেবল হতাশার,বিষদের নয়……কিছু কিছু মানুষ আছে যারা চরম হতাশার মধ্যেও মানুষকে আশার আলো দেখায়…… সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়……. গত বছর একজন স্থপতিকে এই ছবিগুলো দেখানোর পর সে হাওয়া বিবির ঘরটি সম্পুর্ন ভাবে নতুন করে বানিয়ে দেবার জন্য টাকা দেয়…… হাওয়া বিবি এখন তার কিশোর পুত্র রাজুকে নিয়ে তার নতুন ঘরে থাকে…. হাওয়া বিবি এখন তার মনবল ফিরে পেয়েছে, আবার নতুন করে বেঁচে থাকার যুদ্ধে নেমেছে সে….. এখন সে আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়, অনেক সাহসী, কেননা সে জানে সারাদিনের যুদ্ধ শেষে নতুন ঘরে তার নিদ্রা হবে পরম স্বস্তিময় ও নিরাপদ যা তাকে আগামীকালের যুদ্ধের জন্য নতুন করে শক্তি জোগাবে….. তাই একটি ঘর শুধু একটি ত্রিমাত্রিক স্পেস নয়, একটি সুন্দর,পরিপাটি, নিরাপদ ঘর আসলে জীবনযুদ্ধের এক একটা পাওয়ার হাউস যা মানুষকে অনেক বেশি শক্তিশালী ও অনেক বেশি সৃস্টিশীল করে তোলে।

তবে কথা আছে…… সে নতুন যে ঘরটা বানিয়েছে আর দশটা আসেপাশের ঘরের মতো সেটা কি আসলে অন্য রকম কিছু হতে পারতো?

সেটা যদিও আগের চেয়ে নিরাপদ কিন্তু নতুন ঘরে আগের চেয়ে কি বেশি আলো বাতাস খেলা করে?

গতানুগতিক করোগেটেড আয়রন শিট ব্যবহার না করে অন্য কোন সাস্টেইনেবল ম্যাটেরিয়াল কি ব্যবহার করা যেতো?

ঘুর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাস বিরুদ্ধে ঘরটা কি আরো সহনীয় করা যেতো?

ঘরের ডিজাইন ও প্ল্যানে কি আরো কোন ফাংশনাল নতুন অনুসঙ্গ যোগ বা বিয়োগ করা যেতো?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হবে স্থপতিদের ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবিদের। এ নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে এবং একই সাথে আমাদেরও অনেক অনেক কিছু শেখার আছে তাদের কাছ থেকে……..হয়তো দেখা যাবে তাদের শেখাতে গিয়ে অনেক অনেক বেশি কিছু আমরা শিখে আসছি তাদের কাছ থেকে।

স্থপতিদের মধ্যে শিকড়ে ফিরে যাবার এই সৎ আকাঙ্খা ও মনস্তাত্ত্বিক দিক পরিবর্তনের চিন্তা আরো জোড়ালো হোক।

ঘর – ৫ নান্না হাওলাদারের ঘর

চরেরবাড়ি,কলাখালি, পিরোজপুর

নান্না হাওলাদারের ঘর নামক এই বস্তুর খুব কাছেই কালিগঙ্গা নদী, অতি দরিদ্র নান্না এই নদীর জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনে নিয়ে দূর দুরান্তের হাট বাজারে বিক্রি করে সংসার চালায়। নান্নার বউয়ের নাম নাহার বিবি।

এই নিতান্ত তুচ্ছ স্ট্রাকচারেরও কিছু সৃজনশীল স্ট্রাকচারাল কৌশল আছে……. ঝড়ের সময় নদী থেকে আসা জোড়ালো বাতাসের ধাক্কায় যেন এই ছোট্ট আশ্রয়টি উড়ে না যায় সে জন্য চাল থেকে বেশ কিছু সুপারি গাছের ফ্রেম সোজা ঢুকে গেছে মাটির ভিতর, এতে আশ্রয়টি অনেক বেশি ঝড় সহনীয় হয়েছে।

এই ঘর নিয়ে কি লিখবো আমি?

এর
বর্ননা নিস্প্রয়োজন।

মন্তব্য নিস্প্রয়োজন।

ঘরটি কোনমুখী তা জানা নিস্প্রয়োজন।

ঘরের ভিতর কয়টি রুম তা বলা
নিস্প্রয়োজন।

ঘরটিতে কি কি ম্যাটেরিয়াল ব্যবহৃত হয়েছে তা বলা নিস্প্রয়োজন।

ঘরটি কয় চালা তা বলাও নিস্প্রয়োজন।

এ ঘরটি আর কতদিন টিকবে তা বলাও নিস্প্রয়োজন।

শুধু এদের নিয়ে চিন্তা করাটা নিস্প্রয়োজন নয়, বরং খুব,খুব,খুব বেশি প্রয়োজন।

নান্না হাওলাদারের ঘর
নান্না হাওলাদারের ঘর

এর চেয়ে আর কিছু বলতে আজ আর ভালো লাগছেনা,তার পরেও বলিঃ

এতো দারিদ্র, এতো নিরাশার মাঝেও জগতের আর সব মায়েদের মতো নাহার বিবিও তার মেয়েকে সাজাতে ভালোবাসে,এই পৃথিবীতে তার একমাত্র সম্পদ ঘরের সামনের যে বুড়ো মেন্দি (শুদ্ধ বাংলায় বলে মেহেদি) গাছটা আছে সেই মেন্দি পাতা বেটে সে তার শিশু কন্যা ফাতেমার দুই হাতের নরম তুলতুলে তালুতে পরম আদরের সাথে খুব সুন্দর আলপনার নক্সা এঁকে দেয়…… তার এই নক্সার গ্রাফিক্স বের হয়ে এসেছে তার জন্ম জন্মান্তরের একান্ত নিজস্ব চিত্রকল্প ও নিস্কলুষ সাংস্কৃতিক রক্তধারার ভিতর থেকে, আমাদের নাগরিক চিরচেনা পরাশ্রয়ী ব্রুটাল গ্রাফিকস থেকে তা সম্পুর্ন আলাদা।

ফাতেমা মহানন্দে সারা পাড়া ঘুরে ঘুরে সবাইকে তার এই হাতের নক্সা দেখিয়ে বেড়ায়……সে জানিয়ে দিতে চায় জগতের মহা আনন্দ যজ্ঞের সেও একজন ভাগিদার……. তাকে আর অবহেলা করা যাবে না।

————————————————————-
২য় পর্বের লিঙ্কঃ https://tinyurl.com/y46qkmcm
৩য় পর্বের লিঙ্কঃ https://tinyurl.com/y3ugtyna
৪র্থ পর্বের লিঙ্কঃ https://tinyurl.com/y3w5jrn3

One thought on “গ্রামীণ জনপদের ঘরবাড়ী

  1. দক্ষিনাঞ্চলের ঘরের যে এতো বৈচিত্র তা জানা ছিল না৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *