Shah Muhammad Mohsin Khan Mausoleum

Remarkable Shah Muhammad Mohsin Khan Mausoleum: স্থপতি, অর্জন ও আধ্যাত্মিক স্থাপত্যের সংমিশ্রণ

Remarkable Shah Muhammad Mohsin Khan Mausoleum: স্থপতি, অর্জন ও আধ্যাত্মিক স্থাপত্যের সংমিশ্রণ

Shah Muhammad Mohsin Khan Mausoleum প্রকল্পটি বাংলাদেশের স্থাপত্য পরিমণ্ডলে সম্প্রতি আলোচিত প্রকল্পগুলোর অন্যতম।  এটি শুধু একজন ব্যক্তির কবরের স্মৃতিস্তম্ভ নয়, বরং এটি স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে এক গৌরবময়  অবয়বে উপস্থাপন করেছে। আর্ক-বাংলার এবারের আয়োজন এই প্রকল্পের কী বিশেষত্ব আছে সে সম্পর্কে।

প্রকল্প: শাহ মুহাম্মদ মুহসিন খান সমাধি
স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান: স্থাপতিক
আয়তন: ২১১৬ বর্গফুট
সাল: ২০২২
প্রধান স্থপতি: শরীফ উদ্দিন আহাম্মেদ


ড্রইং ও সাইট তত্ত্বাবধান: শরীফ উদ্দিন আহাম্মেদ, এস. এম. মুশফিকুল করিম, সাদেকা বদিউজ্জামান
ডকুমেন্টেশন টিম: শরীফ উদ্দিন আহাম্মেদ, সায়েদা সাইখা সুদাহ, আসিফা জামাল
অবস্থান: বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলার শিববাড়ি এলাকায়।
গুগল ম্যাপ লিংক: https://maps.app.goo.gl/vhBuZbio3dTEEm5CA

স্থপতি ও উৎপত্তিঃ

এই অনন্য স্থাপত্যের নকশা মানিকগঞ্জে শিববাড়ি এলাকায় অবস্থিত। প্রকল্পটির স্থপতি হলেন স্থপতি মোঃ শরীফ উদ্দিন আহমদ, যিনি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান Sthapotik–এর প্রতিষ্ঠাতা ও লিড আর্কিটেক্ট। তিনি ইট, স্থানীয় নির্মাণপদ্ধতি এবং সুপ্ত ঐতিহাসিক প্রভাবকে একত্রে ব্যবহার করে প্রকল্পটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন।

Shah Muhammad Mohsin Khan Mausoleum

স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য ও ধারণা

স্থান এবং উদ্দেশ্য: 

দর্গাহটি নির্মিত হয়েছে পীর শাহ মুহাম্মদ মুহসিন খানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এবং এটি তাঁদের পারিবারিক বাসভবনের পরিসীমার মাঝেই অবস্থিত। স্থাপত্যটি অনুপ্রেরণা পেয়েছে সুলতানী যুগের মসজিদ ও সমাধির নকশা থেকে এবং বিশ্লেষিত হয়েছে নতুন রূপে।

তাত্ত্বিক ধারণা:

এর মূল ধারণা হলো “Chandelier of Paradise” — ছাদের সারফেসে তৈরি স্বচ্ছ রোদের খোলা ফোঁটাগুলি যেন স্বর্গের আলো ফেলে, যা ভৌতিক নয় বরং আধ্যাত্মিকতাকে উদ্ভাসিত করে।

  • নকশা ও উপকরণ:
  • প্রকল্পে প্রথাগত বাঙালি কুঁড়ে ঘরের আকৃতি এবং স্কয়ার প্ল্যান ব্যবহৃত হয়েছে (প্রায় ৩৬’x৩৬’)।
  • Shah Muhammad Mohsin Khan Mausoleum
  • চারপাশে গোলাকার “Turreted Wall” যা উপরের অংশে জালি ও ছিদ্রযুক্ত ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই ফিচারটি আলো ও বাতাস প্রবাহকে “Cylindrical Skylight” এর সাহায্যে “জান্নাতের ঝাড়বাতি”–এর মতো নকশার মাধ্যমে ছাদের মধ্য দিয়ে আলো প্রবেশ করায় এবং এক মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
  • এখানে নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে স্থানীয় লাল ইট, স্থানীয় নির্মাণপদ্ধতি ও শ্রমিকদের দক্ষতা। ফলে এই স্থাপত্য কীর্তি মাটি ও মানুষের হয়ে উঠেছে।
ব্যবহার ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব:
  • এখানে তিনটি কবর রয়েছে: পীর, তাঁর পিতা ও স্ত্রী, এবং পুত্রের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়েছে।
  • বার্ষিক ওরসের সময় এটি স্থানীয়দের জন্য আলোচনার ও প্রার্থনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

এই অনন্য স্থাপত্যকাজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতপ্রাপ্ত। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় আজ এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্ব স্থাপত্যের একটি সম্মানজনক ঠিকানা।

শাহ মোহাম্মদ মোহসিন খান সমাধি, ২০২৪ সালে সম্মানজনক Royal Institute of British Architects (RIBA) International Award for Excellence অর্জন করেছে। RIBA কর্তৃক প্রদত্ত এ পুরস্কার বিশ্বজুড়ে স্থাপত্যে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক, যা “দূরদর্শী চিন্তা, অনন্যতা, উৎকৃষ্ট বাস্তবায়ন এবং সামাজিক ও পরিবেশগত অবদানের” মূল্যায়ন করে। স্থপতি শরীফের এই প্রকল্পটি ২০২৩ সালে Friendly and Inclusive Awards-এ সম্মানজনক উল্লেখ বা Honorable Mention পেয়েছিল এবং ২০২৪ সালে ArchDaily 2024 Building of the Year Award.-এর ফাইনালিস্ট ছিল। এটি ২০২৩ সালের মর্যাদাপূর্ণ Erich Mendelson Awards for Brick Architecture Awards-এর জন্যও মনোনীত হয়েছিল।

গুরুত্বঃ Shah Muhammad Mohsin Khan Mausoleum

স্থাপনাটি বাংলাদেশের স্থাপত্যাঙ্গনে একটি ঐতিহাসিক ও নবোন্মেষী শিল্পকর্ম:

  • এটি শারীরিক ভিজ্যুয়াল নয়, বরং এক আধ্যাত্মিক সংযোগের প্রতীক, যেখানে সূর্যালোক “Paradise” থেকে ঝলসানো ঝাড়বাতির মতো ভেতরে প্রবেশ করে।
  • প্রথাগত আইডেন্টিটি এবং আধুনিক কল্পনাকে একত্রে ধারণ করে।
  • স্থানীয় উপকরণ, সামর্থ্যবান নির্মাণ প্রযুক্তি ও স্থানীয় কারিগরি দক্ষতা প্রয়োগ করায় এটি একটি টেকসই স্থাপত্যশিল্প হিসেবে গণ্য হয়।
  • আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় আজ এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্ব স্থাপত্যের একটি সম্মানজনক ঠিকানা।

Shah Mohammad Mohsin Khan mausoleum

জনপ্রিয় ও দর্শনীয় স্থাপত্য মানেই শুধু সৌন্দর্য নয়; সেটি হতে পারে আধ্যাত্মিক সংরক্ষণ, স্থায়ী উপকরণ ও সাংস্কৃতিক বোধের সংমিশ্রণ এবং ঐ সমস্ত দৃষ্টিভঙ্গির একটি সফল উদাহরণ যে — স্থাপত্য শুধু কবর নয়, বরং স্মরণ, মমতার অবিচ্ছিন্ন সেতু।

প্রিয় পাঠক, আপনারা কী বলবেন—শ্রমের ফলেই কি যেকোনো স্থাপত্য অনন্য হয়ে ওঠে, নাকি এর পেছনে প্রয়োজন সঠিক “দৃষ্টিভঙ্গি” ও “অভিজ্ঞান”? মন্তব্যে জানাবেন!

—- —- — —

#Architect_Sharif_Uddin_Ahmed #শাহ_মোহাম্মদ_মোহসিন_খান_সমাধি
#bangladeshi_architecture
#islamic_architecture
#Modern_Architecture
#Brick_architecture
#Modern_Mausoleum
#Mausoleum #Sthapotik #স্থাপতিক
#Award_Winning_Design

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *